নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশ স্বাধীনের পর ৭২ সালে রাষ্ট্রপ্রধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার,যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের জন্য গঠিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের নামে পরিত্যাক্ত শত্রু সম্পত্তির জমি ও ৩৩টি বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান দান ও অধিভুক্ত করে যান। সেই সম্পত্তির উপর স্থাপিত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপার্জিত আয় থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা আবাসিক গৃহ দান,চিকিৎসা খরচ চালানো শুরু করে পরবর্তীতে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সহ বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে চিকিৎসাসেবা বীরনিবাস নির্মাণ, বিদেশে চিকিৎসা ভ্রমন ইত্যাদি দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর যাবত চলে আসছে। বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ড. ইউনুসের জবর দখল সরকারের শকুনি দৃষ্টি পড়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের ৩৩ টি আয়জনিত প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির উপর। ফলে এই সম্পত্তি বিক্রি করার হীন মতলবে মূল্য যাচাই ও নিরুপণ করার জন্য একটি কমিটি করেছিল।
২০২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকার তাদের ক্ষমতার ছয় মাসের মাথায় এসে ড.ইউনুস সরকারের পথেই হাটা শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ট্রাষ্টের অর্থভান্ডার নামি সম্পত্তি বিক্রির কথা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন এ সম্পত্তি বিক্রি করে সরকারের কল্যাণে ব্যবহার করবে নাকি সরকারের কল্যাণের নামে সম্পত্তির হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মাধ্যমে আত্মসাধ করবে!মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তা বোধগম্য নয়।
ড. ইউনুসের মেটিক্যুলাস ডিজাইন কৃত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সশস্র অভ্যূত্থানের পর ড.ইউনুস সরকার ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধীনতা, জয়বাংলা, বঙ্গবন্ধু নাম,তাঁর ৭ মার্চের ভাষন রিসেট বাটন টিপে বাতিল সহ তার জঙ্গি ও সমম্বয়ক মববাহিনী মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মেহেরপুর মুজিব নগর সহ সারাবংলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ধানমন্ডির ৩২ বঙ্গবন্ধু যাদুঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। অতপর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অপধস্ত তাদের নামে মিথ্যা মামলা রজ্জু করে জেলহাজতে ঢুকায়ে ও মনের খ্যাদ মিটেনি স্বাধীনতা বিরোধী দেশধবংসকারি ড. ইউনুসের।
তাই অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ আশ্রয়স্থল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের সম্পত্তি লোপাট করা হীন চক্রান্তে সম্পত্তিগুলি বিক্রী করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করছিল। ৩৩ টি প্রতিষ্ঠান ও কয়েক হাজার বিঘা জমির মূল্য যাচাই ও নিরুপণে একটি কমিটিও নাকি গঠন করেছে এবং এই কাজে সহযোগিতা ও বৈধতা দেওয়ার জন্য বর্তমান যে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড ১১ সদস্য আহবায়ক কমিটি চলমান এটা ড.ইউনুসের নির্দেশে বছর দেড়েক আগে গঠন করা হয়েছিল বিএনপি জামাতের সমর্থিত জিন্দাবাদ শ্লোগানধারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠনতন্ত্রে আহবায়ক কমিটি গঠনের কোন নিয়ম নেই।একমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সংসদের বৈধ কর্মকর্তা।
সরকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন নির্বাচনের আয়োজন না করে অনির্বাচিত অবৈধ আহবায়ক কমিটির সমর্থন নিয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের সম্পত্তি বিক্তি করার পায়তার করে তা কোন জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রজন্মরা ও স্বাধীনতা সপক্ষের কেউ মেনে নেবে না।আর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তি বিক্রীর কোন বৈধ এক্তিয়ারও সরকারের নেই।
অনতিবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধারের একমাত্র অর্থভান্ডার (যা থেকে প্রায় দুই লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার ভাতাসহ যাবতীয় সহযোগিতা পায়) কল্যাণ ট্রাষ্টের সম্পত্তি বিক্রির পায়তারা বন্ধ করুন অন্যথায় সারা বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্বার্থ বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
Leave a Reply