বয়সের ভাড়ে ন্যূয্য, নানা রোগ-বালাইয়ে জর্জরিত, প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে জীবনাবস্থা অচল, তদীয় অবস্থায় প্রবর্তীত সামাজিক রাজনৈতিক স্বাধীনতা বিরোধী ভিন্ন মতালম্বীদের দ্বারা মামলা,হামলা,শারিরিক মানসিকভাবে নির্যাতিত নিপিড়িত নিগৃহিত অপমান অপধবস্তের শিকাড় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকারি নিরাপত্তাহীন অবস্থায় কিভাবে বেঁচে থাকতে পারে মুক্তিযোদ্ধাদেরই অর্জিত এই বাংলায় তার জবাব দিবেন কি জুলাই’২৪ এর চেতনাধারণকারি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীদ্বয় মহাদয়!!
স্বাধীনতার পর থেকেই ৭১ এর পরাজিত পাকিস্তান বাহিনীর এ দেশীয় তাদের দোসর রাজাকার আল বদর আল সামসরা নানাগুপ্ত ষড়যন্ত্রের পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা মিথ্যা গুজব রটিয়ে অপমান অপধবস্ত ও হেয় প্রতিপন্ন করতে নিরলস চেষ্টা করেছে। সেটা আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল বঙ্গবন্ধু কিছু অল্পদোষী স্বাধীনতা বিরোধীদের মাফ করে দেওয়াতে এবং ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের পর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি জেনা: জিয়াউর রহমান কর্ত্তৃক স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতি করার আইন উন্মূক্ত করার পর থেকে পরাজিত পাকিস্তান পন্থী দোসর রাজাকার আল বদর জামাতে ইসলামী ছাত্রশিবির মুসলীম লীগ নেজামী ইসলামীরা প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরোধীতা ও ষড়্যন্ত্র শুরু করে চরম ভাবে জেনা: জিয়া ও বিএনপির সরাসরি তাদের পিষ্ঠপোষকতা করে । কারণ তারা দেখেছে জেনা:জিয়া নিজের ক্ষমতা নিস্কন্টক করার জন্য ৭ নভেম্বর ‘৭৫ সিপাহী জনতার অভ্যূত্থানের নামে সেনানিবাসে যুদ্ধকালিন ২নং সেক্টর কমান্ডার ‘কে’ ফোর্স প্রধান ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্ণেল এটিএম হায়দার সহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা অফিসার সৈনিককে হত্যা করা হয়েছে। সেই ধারা জিয়ার উত্তর সূরী প্রেসিডেন্ট জেনা: এরশাদ সামরিক ক্যূতে ৩০ শে মে ‘৮১ রাষ্ট্রপতি জেনা: জিয়া হত্যার প্রহসনের বিচারের নামে জেনা: মঞ্জুর সহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার ও বহুসংখ্যক সেনাসদস্যকে নিরবে নিধন করা হয়েছে। কথিত আছে এত বছর পরেও বর্তমানে সেনা সদরের ভিতরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বহুসেনা অফিসারকে চাকুরিচ্যুত বেআইনী বদলী,শাস্তির ব্যবস্থাও স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তান পন্থী চক্রের ষড়যন্ত্রে চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য জুলাই’২৪ অভ্যূত্থানের পর ড. ইউনূসের মেটিক্যুলাস ডিজাইনকৃত স্বাধীনতা বিরোধীচক্র আইএসআই সংশ্লিষ্ট জঙ্গি উগ্রমৌলবাদী তৌহিদী জনতার মব বাহিনীর উত্থানে দেশের স্বাধীনতা মহান মুক্তিযুদ্ধ,৭২ এর সংবিধান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্থাপনা ম্যূরাল,মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘর,স্থাপনার উপর আঘাত ধবংসলীলা চলেছে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর সরাসরি আঘাত,গলায় জুতার মালা, হামলা, মিথ্যা মামলা রজ্জু, বাড়িঘরে ভাংচুর অগ্নিসংযোগ,লুটপাট, খুন ধর্ষন এহেন কিছু নেই যা ২৪ এর জুলাই জঙ্গিরা করে নেই। অত:পর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচলিত মাসিক ভাতার টাকাটা ব্যতীত সকল সুযোগ সুবিধা একেএকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক ঋন বন্ধ,বীর নিবাস প্রকল্প বন্ধ,মেডিক্যাল ভাতা বন্ধ, বিদেশ ভ্রমন ভাড়া কন্সেশন বন্ধ,বিদেশে সন্তানদের প্রাপ্ত স্কলারশীপ বন্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি। মুক্তিযোদ্ধাদের অতীতে ৭/৮ বার যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে চড়ান্ত সম্মিলিত তালিকা শেষে ডিজিটাল সনদ প্রদান ও MIS নাম্বার ফেলে সকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি ১,৯৮,০৩৭ (এক লক্ষ আটা নব্বই হাজার সাইত্রিশ) জন মুক্তিযোদ্ধার নামে হিসাব সংরক্ষিত ব্যাংকে ভাতা পরিশোধ করছে। এরপরও আবার যাচাই বাছায়ের নামে মৃতপথ যাত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর অহেতুক মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে এ হেন সরকারি দুরাচার দুর্ব্যবহার কাকে সন্তুষ্ট বা খুশি করার জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ দিচ্ছেন জবাব দিবেন কি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীদ্বয় তথা খেতাবপ্রাপ্ত ১নং সেক্টর কমান্ডার জেড ফোর্স প্রধান ও প্র্য়াত প্রেসিডেন্ট জেনা :জিয়ার সুযোগ্যপূত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!!
ভাতা প্রাপ্ত ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৭ জন ( সংসদে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যসূত্রে) এর মধ্যে জীবিত আছেন কমবেশী ৮৮ হাজার থেকে ৯১ হাজার জন মুক্তিযোদ্ধা মাত্র। বর্তমানে প্রতিদিন গড়পড়তা ৮/১০ জন বয়প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পৃথিবী থেকে না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধা শূণ্য বাংলাদেশ হতে খুব বেশী সময় আর লাগবে না।
বিনীত অনুরোধ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দুইমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী সমীপে উপরে উল্লেখিত অশিতপর বয়সের ভারে ন্যুয্য মুক্তিযোদ্ধারা যে কয়দিন বেঁচে আছেন তাদের ন্যূন্যতম সম্মান টুকু ও নির্মল নির্মহ শ্বাস নিয়ে আপনা প্রদত্ত নিরাপত্তার আবরণে বেঁচে থাকতে দিন। আল্লাহ আপনাদের হেদায়েত ও হেফাযত করুন। আমিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
*****
বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম করম আলী***
Leave a Reply