নিজস্ব প্রতিবেদক:
কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেষ্ট অর্থাৎ স্বার্থের সংঘাত বা দ্বন্দ।
প্রত্যেকটি দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালনায়
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রী, সচীবালয়ে সচীব,যুগ্ম -সচীব,উপ-সচীব,
পরিচালক,বিচারালয়ে বিচারকগণ,বাহিনীতে সেনা বাহিনী,নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী,পুলিশ বাহিনী তথা সবকারি আধা সরকারি রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্তাব্যক্তিগণ দায়িত্ব গ্রহনের পর ‘ যে শপথ বাক্য পাঠ করেন–যেখানে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কল্যাণকর সকল কাজ যথাযথভাবে সততা বিশ্বাস ও ন্যায় নিষ্ঠার সাথে সম্পাদন করবেন। কারো প্রতি অতি উৎসাহিত বা কারো প্রতি রাগের বসোবতি হইয়া কোন কাজ সম্পাদন করবেন না এবং সংশ্লিষ্ট পদে সমাশিন থেকে ব্যক্তিগতভাবে নিজে রাষ্ট্র থেকে কোন অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা গ্রহনে বিরত থাকবেন এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা পেশা দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তি স্বার্থের দ্বন্দ পরিলক্ষিত না হয়– এরুপ সকল কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সর্ব্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে স্বাক্ষী রেখে এ শপথ করা হয়।
আমাদের দেশের ক্ষেত্রে কি সরকারের ভিতর পেশাক্ষেত্রের ও ব্যক্তির সংঘাত বা দ্বন্দটাকে রোধ করতে পেরেছি? পারিনি তো-২০২৪ এর জুলাই অভ্যূত্থানের পর জনগণ আন্দোলনের নেতাদের কাছ থেকে যে প্রত্যাশা করেছিল তা তারাই প্রথম ভঙ্গ করেছেন নেতৃত্বের সর্ব্বোচ্চ আসণ থেকে।
মিছে মিছি ছাত্রদের কোটা বৈষম্যের অজুহাতে প্রকৃত দেশীবিদেশী US$ ডলারে নিয়োগকৃত ড.মু ইউনুসের মেটিক্যুলাস ডিজাইনে শেখ হাসিনার সরকার পতন ঘটানো হয়েছিল অত:পর নবেল লরিয়েট খ্যাত ড.ইউনুস অন্তবর্তীকালিন সরকার প্রধান হয়ে দেশ চালানো শুরু করেন তারই পরিচিত বিভিন্ন এনজিও বিদেশী সাগরেদ ডিপস্টেটের ডলার খেকো সুবিধাবাদী দেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি সংঘবদ্ধ উগ্রমৌলবাদী সশস্র জঙ্গিগোষ্ঠি ও স্বার্থের দ্বান্দিক গ্রুপ নিয়ে।
যারা ইউনুস সরকারে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাজানো গোছানো সোনার বাংলা নামের দেশটাকে ১৮ মাসে যে যেভাবে পারে শকুনের মত মরা গরুর মাংস যেভাবে ছিড়ে খাবলে টুকরো টুকরো করে খায় সেভাবে খেয়েছে সবায় মিলে। দেশোন্নয়নের নূন্যতম কোন কাজ তারা করেননি।
শুধু পতীত সরকারের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম প্রতিশোধমূলক জুলুম অত্যাচার হামলা মামলা খুন জখম, ধর্ষন বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অফিস আদালত ভাঙচুর লুটপাট আগুনে পুড়িয়ে বুলড্রোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত শিল্পকারখানা লুট, মালিকদের বুকে অস্র ঠেকিয়ে মব করে হাজার হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে।
সচীবালয়ে কর্মকর্তাদের ফ্যাসিস্ট ট্যাগ লাগিয়ে সচীব, যুগ্মসচীব উপ-সচীবদের পদচ্যুতি, কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অন্যদের পদোন্নতি,বিচারালয়ে বিচাপতি,বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেচর কলেজে অধ্যক্ষে হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষকদের মব করে পদচ্যুতি ঘটানো হয়েছে অতপর সে পদে কোটি কোটি লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুন:নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিজিবি ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষেত্রেও অনুরুপ কান্ডকারখানা ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোড,বিদ্যুত,স্থানীয় সরকার বিভাগেও বিএনপি জামাত এনসিপি সমন্বয়করা হাজার হাজার লোককে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিনা ইন্টারভিউতে ঢুকানো হয়েছে।
সয়ং ড.ইউনুস সাহেব ও তার উপদেষ্টারা দেশী বিদেশী ব্যবসা বৃদ্ধির নাম করে সরকারি টাকা খরচ করে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমন করেছে তার ফলাফল শূণ্য । ড. ইউনুস বিদেশী বন্ধু বাড়ানোর জন্য প্রতিবার শতাধিক লোক নিয়ে ১১ বার বিদেশ সফর করে কোটি কোটি সরকারি ট্রেজারির টাকা নষ্ট করেছেন দুই পয়সার উপকারে হয়নি। বরং ব্যক্তিগতভাবে তিনি ও তার উপদেষ্টারা বিভিন্ন খাত দেখিয়ে প্রত্যেকে ট্রেজারি খালি করে নিজেরা হাজার হাজার কোটি টাকায় পকেট বুঝাই করেছেন। রাষ্ট্রটাকে তারা উগ্রধর্মীয় জঙ্গি ও তৌহিদী জনতার যুদ্ধ ক্ষেত্রের মহা চারণ ভুমিতে পরিনত করেছেন।
দীর্ঘ ১৮ মাসে ড.ইউনুসের দু:শাসনে বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি সারা বিশ্বে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে,ব্যবসা বানিজ্যিক ও অর্থনীতিতে দেউলিয়াত্ব একটি ভঙ্গুর তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত হয়েছে। অধ:পতীত বিশৃঙ্খল আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন জনজীবন পরিবেশিত মব ও জঙ্গি রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে গেছেন।
ক্ষমতা থেকে বিদায়ের আগের তিনি নিজের শপথ ভঙ্গ করে–নিজের গ্রামীন ফোনের সরকারি ফাঁকি দেওয়া ট্যাক্সের ৬৬৬ কোটি টাকা মুওকুফ করে নিয়েছেন,তিনি গ্রামীনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়,মেডিক্যাল কলেজ,নার্স ট্রেনিং ইনিষ্ট্রিটিউট,ম্যান-পাওয়ার লাইসেন্স,স্যাটেলাইট স্টারলিংক নেটক্যাবল লাইসেন্স সহ এক ডজনেরও বেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তিনি নিজে বাগিয়ে নিয়েছেন এবং তার উপদেষ্টাদের মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টারা ও হাজার হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন। জাতি ও সংবিধান সংস্কারের নামে বছরব্যাপি দীর্ঘ মহড়া দিয়ে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে এই সোনার বাংলাটাকে ফকিন্নির দেশ বানিয়ে রেখে গেছে। শুধু তাইবা বলি কেন! ড.ইউনুস সাহেব ১২ ফেব্রুয়ারি’২৬ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেরুয়ারি’২৬ একান্ত গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক অসম বানিজ্যচুক্তি করে গেছেন তা দেশবিক্রী চুক্তি নামে খ্যাত (বিএনপি জামাত এনসিপির সম্মতিতে) (১৭৫৭ সালের ইস্টিন্ডিয়া কোম্পানী বাঙালিদের সাথে যেরুপ দুইশত বছরের গোলামী চুক্তি করে ছিল) যাকে বাংলাদেশ গোলামীর চুক্তি বললে ভুল হবে না। এছাড়াও ড.ইউনুস চট্টগাম একাধিক পোর্ট সহ কক্সবাজার সুমদ্রদ্বীপ সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও পার্বত্য এলাকায় রাঙ্গামাটিতে মানবিক করিডোর চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুসি করেছেন।
যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম লেখাটা ‘ কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেষ্ট অর্থাৎ স্বার্থের সংঘাত বা স্বার্থের দ্বন্দ’। রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে পেশাদায়িত্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে দ্বান্দিকতার মধ্যে জড়িয়ে ফেললে সরকারি শপথ অটুট থাকে না ভঙ্গ হয়। যেখানে রাষ্ট্রের মূল নিয়ন্ত্রক ড.ইউনুসরা রাষ্ট্রের শপথ ভেঙ্গে ব্যক্তি মালিকানায় সম্পদের মালিক হন সেখানে রাষ্ট্র শপথ মূল্যহীন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র শপথের আর দরকার কি! ফ্রি স্টাইলেই চলুক রাষ্ট্র বা দেশ!!
Leave a Reply