ধর্মীয় বিষয় নিয়ে একটু ব্যতিক্রম যুক্তিযুক্ত সত্যসন্ধানী কথাবার্তা বললেই সমাজের একশ্রেনীর অর্ধশিক্ষিত ও একপেশে চিন্তার ধারক বাহক হুজুরদের কাছে ধর্ম বিদ্ধেষী বা নাস্তিক ধোয়া তুলতে এক মিনিটও বিলম্ব হয় না। কিন্তু আলোচ্য বিষয়ের মূলবস্তু বা উহার পক্ষের যুক্তির যথার্ততা সঠিক কি বেঠিক বিচার না করেই হৈ চৈ শুরু হয় ধর্ম গেল ধর্ম গেল বলে। ধর্মীয় প্রকৃত শিক্ষা থেকে এখনো বাঙালিরা অনেক পিছিয়ে থাকার কারণে
ধর্মভীরু বাঙালিকে সহজেই বিভ্রান্ত করে ধর্ন্মান্ধ স্বার্থান্বেষী মানুষগুলি পার পেয়ে যায়।
বাংলাদেশের সংবিধানে চারটি মূলনীতির মধ্যে ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ একটি নীতি আছে বাঙালি নাগরিকদের বিভিন্ন ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠি সম্প্রদায়ের মানুষকে তাদের ধর্ম পালনে অবাধ সুযোগ, সম্মান স্বক্রীয়তা স্বাধীনতা দান করা হয়েছিল যাতে ধর্মীয় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সম্প্রীতি বজায় থাকে দেশব্যাপি। তবে বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলমানের সংখ্যা মোট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশেরো বেশী। ফলে সাধারণ বাংলা ইংরেজী বিজ্ঞান স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার পাশাপাশি আরবী মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই। তবে তা দুই ধরনের যথা আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ও কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা।আলেয়া মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রে সাধারাণ স্কুল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের মত সমমর্যাদায় শিক্ষার মান ছিল কিন্তু কওমী মাদ্রাসাকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে কোন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রীর সম মর্যাদা দেয়নি কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কওমী মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ব বিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রীর মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে ২০২৪ সালের ক্ষমতাচ্যুতির বছর খানেক আগে। ফলে কওমী মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ”কওমী মাতা” উপাধিতে আখায়িত করা হয়েছিল।
কিন্তু দু:খ্যের বিষয় দীর্ঘ বঞ্চিত অবহেলিত কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক শফি মাওলানা ও মাওলানা মামুনুল হকরা ও ছাত্রছাত্রী ২৪ জুলাই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে পতন ঘটাতে বিশ্ব বেইমান ও মোনাফেকের মত সদলবলে নারায়ে তাকবির আল্লাহ হু আকবার ধবনি দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল।এবং এই কওমীরা ২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিল শাপলা চত্বরের সরকার হঠানোর সমাবেশে কাল্পনিক হত্যাকান্ডের বিচারে শেখ হাসিনাসহ তার দলীয় ও সরকারের অনেককে মামলায় জড়িয়ে মূখোমূখি দাড় করিয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রতি ন্যূন্যতম কৃতজ্ঞতা টুকু দেখানোর প্রয়োজন মনে করলো না কওমী মাওলানা মামুনুল হকেরা অথচ যে বিএনপি জামাত ইসলাম, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের জন্য বাংলাদেশকে নতুন পাকিস্তান বানাতে চায় সেই বিএনপি জামাত গলায় গলায় সরকারে থাকতে জেনা: জিয়া, খালেদা জিয়া,গোলাম আজম নিজামী আলী আহসান মুজাহেদীরা এমন কি ইসকামকে রাষ্ট্রধর্ম বানালো প্রেসিডেন্ট এরশাদ তার সরকারও কওমী মাদ্রাসাকে উচ্চ ডিগ্রীর স্বীকৃতি দেয়নি তারা।অথচ তাদের সাথেই গাটছাড়া বেধে শেখ হাসিনার মত একটি দেশপ্রেমিক স্বাধীনতার সার্বভৌম রক্ষাকারি দেশোন্নয়নের সুযোগ্য বলিষ্ঠ গৌরবদীপ্ত সুখ্যাতিপূর্ণ উন্নয়নের মডেল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাজানো গোছানো সোনার দেশটাকে ধবংস করার কাজে মাওলানা মামুনুল হকরা জড়িয়ে পড়তে একবারও চিন্তা করলো না।
কেনোই বা করবে ভিক্ষার ঝলি হাতে ধরিয়ে দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় দাড় করা যাদের ব্যবসা আর অপ্রাপ্ত শিশু কিশোর ছাত্রছাত্রীদের উপর পৈশাচিক বলৎকার আর ধর্ষন যাদের আমৃত্যু নেশা তারা কিভাবে উচ্চ শিক্ষার মর্যাদা ও দেশনেত্রী বিশ্বনেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মানবিকতার মূল্য বুঝবে! কওমীরা শেখ হাসিনার মহানুভবতায় উচ্চ শিক্ষার সনদের স্বীকৃতি পেয়েছে বটে ছাত্র শিক্ষকদের মানুসিকতার পরিবর্তন হয়নি এখনো।
তারা নিজেরাইতো নিজেদের যোগ্যতার কথা অস্তিত্বের কথা বুঝে না তারা অপরের মহানুভবের কথা কিভাবে বুঝবে! আল্লাহ অধিভুক্ত বেইমানির পথ থেকে সকলকে সঠিক পথে হেদায়েত করুন।আমিন।
Leave a Reply