নিজস্ব প্রতিবেদক
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে মিডিয়া জগত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যূত্থানে আমেরিকার ডিপ স্টেট কর্তৃক প্রদত্ত ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পকেট ভর্তি মিডিয়াজন, এনজিও কর্মকর্তা,সুশীল নামক লোভী এলিট সমাজ,অস্রবাজ মব-বাজরা খুসিতে ধিন ধিন করে নাচছে দীর্ঘদিন পরে হলেও তাদের কাংখিত কথিত ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর নামি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন থেকে দূর হয়েছে। গত ১২ ফেরুয়ারি ‘২৬ নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে তাদের ষোল কলা পূর্ণ হলে তরিঘরি করে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাকে বিদায় করে দিল। নিরবতা পালন করলো রাষ্ট্রপতির একান্ত অনুগত ও আস্তাভাজন সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে বিদায়টা এমন সময় হলো যখন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাহিরে অবস্থান করছিলেন।
কোন কোন সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বর্তমান সময়ে বিদায়টা মন্দের ভালোই হয়েছে। কারণ শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরপর বা একই সাথে পদত্যাগে বাধ্য হলে তিনি যেমন একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়তেন অত:পর মব-বাহিনী থেকে শারিরিক নির্যাতন লাঞ্চনার ব্যাপারটাও যে এড়ানো যেত কিনা তা থাকতো অনিশ্চিয়তার মধ্যে। তারপরও একাধিকবার তাকে বঙ্গভবন থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ড.ইউনূসের মব বাহিনীরা বহু চেষ্টা করেছে। রাষ্ট্রপতির অনুগত সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও বিএনপির সাংবিধান রক্ষাকল্পে বিরোধীতার কারণে রাষ্ট্রপতিকে উচ্ছেদ অভিযানে ড. ইউনূসের মব-বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে।
রাখে আল্লাহ মারে কে! সত্যি যদি জুলাই ২৪ অভ্যুত্থানের পরপর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদচ্যুত হতেন তাহলে গণ -প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশটা হয়তো “ইসলামী প্রজাতন্ত্রে আখ্যায়িত হতো”,৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ” ড.ইউনূসের কথামত রিসেট বাটুনে টিপ দিয়ে চিরতরে মুছে ফেলা হতো”,”জাতীয় পতাকা,জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন হতো,৭১ এর শহীদ মুক্তিযুদ্ধার রক্তে লেখা ৭২ এর সংবিধান আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিদেশী নাগরিক ড.আলী রিয়াজের প্রনীত সংবিধান দেশে চালু হতো”। ” ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার সদস্যদের পাকিস্তান ভাঙ্গার অপরাধে আইসিটি আদালতে বিচারের মূখোমূখি করে ফাঁসির দড়িতে লটকায়ে দিতো”। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি নব নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপিতে স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম,বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. জয়নাল আবেদীন ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. ফজলুর রহমানের মত কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা দলে থাকাতে তাদের চাপে বিএনপির বিরোধীতা এবং বিপ্লবীদের প্রধান সহায়ক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান ও তিন বাহিনী রাজি না থাকাতে পূর্ব কল্পিত প্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি।
২৪ এর অভ্যূত্থানে সেনাবাহিনী প্রধান সংবিধানে বিদ্যমান আইনে সেনাবাহিনী ক্ষমতার মসনদে সরাসরি বসতে পারেনি বটে কিন্তু সেনা প্রধান ওয়াকারুজ্জামান ছিলেন ক্ষমতার কিং মাস্টার। সংবিধানকে পাশে সরিয়ে রাখলে তিনি সরাসরি ক্ষমতার আসণে বসে দেশে মাশাল ‘ ল জারি করে ২০০৭ সালের ১/১১ সরকারের মত দেশ চালাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সংবিধান অক্ষত ও বহাল রেখে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালিন একটি সরকার গঠন করে তাদের উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান। ফলে দেশের আইন শৃঙ্খলা,অর্থনৈতিক অবস্থা লেজে গবরে হয়ে উঠেছিল দেশব্যাপি।
ব্যক্তি কেন্দ্রীক স্বার্থপর লোভী প্রতিহিংসাপরায়ন মব-জাষ্টিজের পৃষ্ঠপোষক ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশে যে উগ্র-মৌলবাদী জঙ্গি উত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা মামলা খুন ধর্ষন লুটপাট বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর অগ্নিসংযোগ চুরি ডাকাতি ছিনতাই,দেশব্যাপি মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিবিজড়িত সকল স্থাপনা ধবংস,শতশত মাযার মন্দির ভাংচুর সহ এমন কিছু নেই যা ধবংস করা থেকে বাদ রয়েছে।
দেশের গার্মেন্ট শিল্প কল-কারখানা বন্ধ, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার, স্কুল কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রিরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে মববাজি করে ফ্যাসিষ্ট সরকারে ট্যাগ দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি ও অভিজ্ঞ শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়ে লাঞ্চিত করে জুতার মালা গলায় ঝুলিয়ে বিদায় করেছে এবং সচিবালয়ের দালালি, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অফিসে আদালতে মব বাজি করে চান্দা ধান্দায় লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে অন্য দিকে দেশব্যাপি বিশৃঙ্খলতার কারণে বিদেশী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে মূখ ফিরিয়ে নেওয়াতে বিদেশী বানিজ্য লাটে উঠেছে যা বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কিনা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সর্বোক্ষেত্রে।
এবার নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে দেশব্যাপি যে আলোচনা পর্যালোচনা চলছে আমার বিশ্বাস তার দায়দায়িত্ব একান্তই বিএনপি সরকারের।তাদের ভবিষ্যত রাজনীতি ও রাষ্ট্র কাঠামো পরিচালানোর সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করেই তারা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিবেন। কারণ সংসদে তাদের নিরংকোষ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন রয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ম্যান্ডট তাদের হাতেই সুরক্ষিত। তবে অনেকেই মনে করে বিএনপির মত একটা বড় রাজনৈতিক দলে একজন সুযোগ্য রাষ্ট্রপতি খুজে না পাওয়ার কোন কারণ নেই। বরং দলীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনই হবে সঠিক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
আমেরিকার ডিপ স্টেট ডলার খাতক জুলাই বিপ্লবী মব-বাহিনী,এনজিও,সুশীল নামের লোভী এলিট সমাজ ও টকশোর অতি উচ্চাভিলাসী অতিকথক সাংবাদিক নামক দেশ বিরোধীরা আবার দেশধবংসকারি স্বার্থপর ড.মু.ইউনূসকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বসানোর জন্য পায়তারা শুরু করছে। বিএনপি কত রকম শর্তে রাজি হয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই স্বার্থান্বেষী হিংসাপরায়ন ড.ইউনূস নামক মানুষটার কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছে তা বিএনপির নেতা তারেক রহমান হারে হারে টের পেয়েছে। ন্যাড়ার তো বার বার বেল তলায় যাওয়ার কথা নয়! আবার যদি সেই ড. ইউনূসকে বঙ্গভবনের বসার ব্যবস্থা করে দিলে –১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা কর্তৃক বিচারপতি সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করার মত ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বিএনপি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তা মনে করে।
বিএনপি দলের বাহিরে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে দলের মধ্য থেকেই একজন প্রবীণ নেতাকে অথবা স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকেই স্থায়ী নিয়োগ দিলে সর্বোত্তম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে অলংকিত করা হবে।
Leave a Reply