পাকিস্তানী স্বৈর সরকার দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর আগে মুক্তিযুদ্ধকালিন বাংলাদেশের উপর চালানো মানবতাবিরোধী গণহত্যা ধর্ষন অগ্নিসংযোগ নির্যাতন নিপীড়ন বেলুচিস্তানের মুক্তিকামী জনগণের উপর সাতচল্লিশে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই শুরু করেছে অনুরুপ মানবতাবিরোধী সকল কর্মকান্ড আজও তা বন্দ হয়নি । বাংলাদেশ তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে সর্বশেষ ১৯৭১ এ বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের
যুদ্ধে চরম বিধবস্ত নাস্তানাবোধের মধ্য দিয়ে পরাস্ত পাকিস্তান বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেছিল মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর কাছে সে স্মৃতি কি এখনো ভূলে গেছে পাকিস্তান! তাই ওদের লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই নিলজ্জ বেহায়ানা পাকিস্তান জান্তাগোষ্ঠি।
কিন্ত বেলুচিস্তানের জনগণ দীর্ঘ ৭৮ বছর বিছিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে হাজার হাজার জনতা বুকের রক্ত ঝড়িয়েছে তবু এখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি।
বিগত নব্বইয়ের শুরুতে বেলুচিস্থানে জন্ম নেওয়া এক অগ্নিকন্যা পিতা ভাই হারানো শোক বুকে নিয়ে উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির দাবানলের মত জ্বলে উঠেছেন পাকিস্তানী স্বৈরশাসক ও জান্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠ হয়ে প্রথমত:আইন আদালতে পিতা ভাই হত্যার বিচারের দাবীতে ও পরে জনতার মোচ্চা (()) গঠন করে রাজপথে প্রতিবাদে নেমেছেন ১৬ বছরে তরুনী মাহরাং বালোচ পরবর্তীতে এমবিবিএস পাশ করে পেশাজীবী ডাক্তারে পরিনত হয়ে বেলুচিস্তানের মানবাধিকার নেত্রী থেকে জননেত্রীতে পরিনত হন।
ইতিপূর্বে ডা,মাহরাং বালোচ এর নেতৃত্বে পাকিস্তানে লং মার্চ এবং বালোচ মোচ্চার মাধ্যমে ঐতিহাসিক জনসভা করে বেলুচিস্তনের জনগণের স্বায়ত্ব শাসন এবং দেশের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী তুলেছেন পাকিস্তান সরকারে কাছে। এদিকে দেশের স্বাধীনতাকামী সশস্র সংগঠন গুলি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে বেলুচিস্তান প্রদেশের ৮৫%(গণ-মাধ্যম সূত্রমতে) এলাকা দখল করে নিয়েছে বলে জানা যায়।
বালোচ নেত্রী ডা: মাহরাং বালোচ এর ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রেরণাকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার জন্য অনুকরণ অনুস্মরণ করছেন। তারা শ্লোগান দিচ্ছে ” বাংলাদেশের স্বাধীনতার নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ম্বাধীনতা আন্দোলনের পথ ধরো,বেলুচিস্তান স্বাধীন করো।” এবং এই অনুপ্রেরণা কাজে লাগিয়ে বালোচরা একদিন স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনবেই।
এখানে আমাদের দেশের পাকিস্তানপ্রেমী কিছু যুদ্ধশিশু ও তার পূর্বসূরী রাজাকার আল -বদর আল-সামসরা ও তাদের প্রজন্মরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি,বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার নায়ক মেনে নিতে পারেনি তা নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহীরদের মত বির্তক করছে, অস্বীকার করছে,অস্মান করছে,অপমান অপধবস্ত করছে ওরা প্রিয়নেতা দেশ জাতিকে।
অপর দিকে পাকিস্তানেরই একটি দীর্ঘ লাঞ্চিত উপেক্ষিত বঞ্চিত স্বাধীনতাকামী বেলুচিস্তান প্রদেশের জনগণ বাঙালির অবিসংবাদিত অপ্রতিদ্বন্দী বিশ্বনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সুউচ্চাসনে রেখে সম্মান জানাচ্ছে । তাঁর সংগ্রামী অনুপ্রেরণা কাজে লাগাচ্ছে তাদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য। চোখে দেখা এই সত্য ইতিহাসকে কখনো মুছে ফেলা যায় না তা আপন মহিমায় পৃথিবীব্যাপি সম্মোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আকাশের উদিত সূর্য, চন্দ্র-নক্ষত্রের মত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মত প্রজ্জ্বলিত সূর্য চন্দ্র নক্ষত্রের দিকে ঢিল ছুড়লে উহার গা স্পর্শ করতে পারে না কখনোই বরং সে ঢিল ফিরে আসে মর্ত ভূমিতেই বিফল মনোরত হয়ে।
বেলুচিস্তানের মুক্তিকামী জনতার দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামে বুকের তাজা রক্ত দানের মূল্য ও মা বোনের ইজ্জতের মূল্য যেন ব্যথা না যায় তাদের এই অমূল্য বলিদান ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতার স্বাদ অচিরেই যেন ভোগ করতে পারে তারা একাত্তরের একজন রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সেই রক্তিম সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইল বেলুচিস্তানবাসীর প্রতি।
Leave a Reply