নিজস্ব প্রতিবেদক: শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ ও জিঘাংসা পূরুনের ইচ্ছায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য একটা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অন্য দেশের কাছে বিকিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোন দেশে দেখা যায় না। ৫৫ বছরের স্বাধীনতাপ্রাপ্তি দেশটিতে আজ এই অবস্থার সৃষ্টির হয়েছে।
১৯৭১ সালে এই দেশটাই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ ও দুই লক্ষাধিক মা বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে দেশটি যাদেরকে পরাজিত করে দীর্ঘ তেইশ বছরের সার্বিক বৈষম্যতা কড়াল গ্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম আজ ৫৫ বছর পর নতুন করে সেই পরাজিত স্বার্থান্বেষী শক্তির মহা ষড়যন্ত্রের বৃহত্তম সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি আমেরিকার কাছে বন্দিত্ববরণ হতে যাচ্ছি এমনকি বন্দীত্বের শিকলে চিরকালের জন্য বন্দী হতে চলেছি।
দেশে গণতন্ত্র মানবতা ভূলন্ঠিত, চাকুরির কোটা বৈষম্যের দোহাই দিয়ে আমেরিকার ডিপষ্টেটের তত্বাবধানে USAID এর $$ 29 মিলিয়ন খরচ করে মেটিক্যুলাস ডিজাইনে একটি নির্বাচিত সরকারকে ফেলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হলো ২৪ এর জুলাই অভ্যূত্থানের নামে কিন্তু তাকি দীর্ঘ দেড় বছরে ড.ইউনুস সরকারের আমল ও বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রায় ৬ মাসে কি জনতার কোন প্রত্যাশা পুরুন হয়েছে! নাকি এখনো ড.ইউনুসের অধ:পতিত মব সন্ত্রাসী আইন শৃঙ্খলা, লুটপাটের অর্থনীতি ব্যবস্থা, নতুন নতুন তৈরী গালি সমৃদ্ধ অপ -সংস্কৃতির উত্থান, স্কুল কলেজে মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে শিক্ষকদের নামে ফ্যাসিষ্ট ট্যাগ লাগিয়ে মববাহিনী লেলিয়ে দিয়ে শিক্ষকদের অপমান অপধ্যস্থ ও পদত্যাগে বাধ্য করে জুতার মালা গলায় পড়িয়ে ঘারধাক্কা দিয়ে বিদায়ের মহাৎসব ঘটানো সংস্কৃতি চালু করা হয়েছিল,। মাদ্রাসায় ছাত্র ছাত্রিকে বলৎকার ধর্ষন খুন জখম,দেশ ব্যাপি ছিনতাই চুরি ডাকাতি প্রতিপক্ষের নামে মিথ্যা হামলা মামলা রজ্জু,জমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে!
দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য পতীত সরকারের চেয়েও ভাল অবস্থানে দেশকে নিয়ে যাওয়ার জন্য জুলাই অভ্যূত্থান ঘটানো হলো অথচ রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, সামাজিক, আইন শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যবসা বানিজ্য বৈদেশিক নীতি কোন কিছুতে অগ্রগতি প্রতিয়মান হচ্ছে না বরং বর্তমান জামাত নিয়ন্ত্রিত বিএনপি সরকার ড.ইউনুস কর্তৃক আমেরিকার সাথে অসম দেশ বিরোধী বানিজ্য চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দর সহ বিভিন্ন বন্দর লীজ, পার্বত্য এলাকায় করিডোর নির্মান চুক্তি, সুমুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন লীজ নিয়ে সংসদে কোন কথা না বলে সেই চুক্তির ধারাবাহিকতা চলছে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি যুদ্ধকালিন সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্যেও ২৪ শের ৫ আগস্টের পর ক্ষতিগ্রস্থ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যাদুঘর মেহেরপুরের বদ্যনাথতলার আম্রকুঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাস্কর্য সহ সারাদেশের শহীদ স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ম্যূড়াল বীরদের প্রতিকৃতি ভাস্কর্য গুলি সংস্কাররের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্চিত অপমান অপধ্যস্থ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রজ্জু হয়েছে তা বাতিল করা হয়নি এবং অপকর্মে জড়িত কাউর বিরুদ্ধে প্রতিকার বা বিচারের মূখোমূখি করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে কথিত জুলাই যোদ্ধাদের অন্য মন্ত্রনালয়ে তালিকা ভুক্তির জোর দাবী উঠলেও তার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এবারের বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ভাতা বাড়ানো হয়নি এখানেও বৈষম্য ঘটানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে দুইজন অমুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন যারা মুক্তিযোদ্ধাদের কথা মুখে আনতে চায় না। দয়া করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মন্ত্রীত্বের দায়িত্বটা দিন। এ দুইজনকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় থেকে সড়িয়ে নিন।
দীর্ঘ দেড় দশক যাবৎ স্বাধীনতা বিপক্ষদল জামাত শিবির,উগ্র ধর্ন্মান্ধ ইসলামী দল, আন্ডার গ্রাউন্ডের সন্ত্রাসী উগ্র বামদলগুলি, এদেশের কিছু তথাকথিত আমেরিকা পাকিস্তান পন্থী পেইড এজেন্ট রাজনীতিক সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবি, পরগাছা দেশ বিরোধী এনজিও,কিছু সাংবাদিক নামের দেশীবিদেশী মাসোহারা দালাল, কিছু শিক্ষক নামের কলংকিত অমানুষ কিছু বিদেশে পলাতক সিআইএ,আইএসআই ও মোসাদের অর্থে পালিত দেশদ্রোহী এক্টিভেষ্ট এবং স্কুল কলেজ মাদ্রাসা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র নামের কিছু উগ্র-জঙ্গিবাদী কুশিক্ষা ও অপ-সংস্কৃতিতে দীক্ষিত প্রফেসনাল খুনি ও চাঁদাবাজরা অনবরত মিথ্যা খবর মিথ্যা গুজব প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে মাঠে নামিয়ে ২৪ শের অভ্যূত্থান ঘটিয়ে দেশটাকে নানা ভাবে ধবংস করে দিয়েছে তা পূর্বাবস্থায় ফিরে আনতে পঞ্চাশ বছরেও পারা যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
কথায় কথায় তারা বাংলাদেশটা ভারতের করদ রাজ্য বলে উচ্চ গলায় অপ-প্রচার করে বেড়াতো অথচ এই দেশটা ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের উদ্বাস্ত এক কোটি লোককে এক বছর থাকা খাওয়া চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। দুই লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিয়েছে অস্র দিয়েছে যুদ্ধ সরমজাম দিয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমাদের পাশে থেকে ভারতীয় লক্ষাধিক সৈন্য যুদ্ধ করেছে স্থলে জলে আকাশে এ যুদ্ধে তাদের কয়েক হাজার সৈনিককে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছে। নতুন বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে ভারতীয় তৎকালিক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্ত করার জন্য সারা বিশ্বব্যাপি ঘুরে ঘুরে কুটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন তাকে ও ভারতকে বানায় বাংলাদেশের শত্রু আর যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চরম বিরোধীতা করেছে এমন কি বাংলাদেশে পাকিস্তান হানাদারদের গণ-হত্যাকে সমর্থন করে আরো মানুষ হত্যার জন্য মার্কিনী পারমানবিক অস্রবোঝাই সপ্তম যুদ্ধনৌবর পাঠিয়েছিল তারা বঙ্গোপসাগরে সেই আমেরিকা নাকি বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু শুনলে লজ্জা লাগে হাসি পায়। এ কথা শুনে পাগলেও হাসবে। তার চেয়েও অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটিয়ে ফেললো বর্তমান জামাত নিয়ন্ত্রিত বিএনপি সরকার আমাদের চিরচেনা শত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ তম স্বাধীনতা দিবসটি বাংলাদেশের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাকজমক ভাবে উদযাপন করলো। যা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের সাংবিধানিক কোন নিয়ম নীতি শিষ্টাচার কুটনীতিতে পড়ে না বরং সরকার ও আমেরিকান এম্বেসিডরের অবাধ এহেন কর্মকান্ড দেখে মনে হয় বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য। হায়রে ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রের গদীটিতে বসার জন্য একটি দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিলিন করে দিতে কার্পণ্য করলো না। বর্তমান শাসকের কাছে দেশপ্রেমের চেয়ে গদী বেশী মূল্যবান। দেশ যাক জাহান্নামে তাতে তাদের গদী থাকলেই হয়। আর মার্কিনীদের কাছে তো নবেল লরিয়েট তৈরী হয়ে গদীতে বসার জন্য ড. ইউনুস আগেই দেশ বিরোধী অসম বানিজ্য চুক্তি,চিটাগাং পোর্ট লিজ,সুমুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন লিজ ও পার্বত্য এলাকায় মার্কিনীদের জন্য সামরিক ঘাটির করিডোর নির্মান, যুদ্ধবিমান ক্রয় ও সামরিক চুক্তি করেছিল এ সরকার তার অনুমোদন দিয়েছে।
সুতরাং জুলাই যোদ্ধাদের কথিত ভারতের লোহার শিকল থেকে মুক্ত হয়ে আমেরিকার সোনার শিকলে বন্দী হলাম আমরা বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মত অনিষ্টকালের জন্য। তাই ভাবি ভবিষ্যতে কি ভাগ্য আছে দুর্ভাগা এই বাঙালিদের কপালে লেখা বিধাতাই তা শুধু জানেন##
দেশের এই ক্লান্তিকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধারা তাদের প্রজন্ম ও স্বপক্ষের সকল দেশ প্রেমিক আমজনতা ও দলমতের নেতাকর্মী সমর্থক শুভাকাং্খীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে।