স্বাধীনতার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও অধিককাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনার শাসনামল পর্যন্ত আমেরিকা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতির খেলায় বাংলাদেশ ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের নৌঘাটি নির্মাণের কুটকৌশল ও ষড়যন্ত্রের সফলতায় ২০২৪ সালে ৫ আগস্টে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের USAID র ২৯ মার্কিন বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে খরচ করে তাদের দীর্ঘ পেইড এজেন্ট ড.ইউনুসের মেটিক্যূলাস ডিজাইকৃত সশস্র অভ্যূত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ড.ইউনুসের নেতৃত্বে পুতুল সরকার বসিয়ে বাংলাদেশ সহ বঙ্গোপসাগর,সেন্টমার্টিন,চিটাগাং বন্দর দখল সহ অলিখিত বাংলাদেশটাকে আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট স্টাম্প ৫২ নং অঙ্গরাজ্যে পরিনত করেছে। কারণ ড.ইউনুসের অন্তরবর্তী সরকার বিদায়ের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ আমেরিকা — বাংলাদেশের মধ্যে যে অসম বানিজ্যচুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদী সই স্বাক্ষর করেছে তাতে বাংলাদেশ আমেরিকার অনুমতি ছাড়া বিশ্বের কোন দেশের সাথে কোন চুক্তি করতে পারবে না আর জামাত বিএনপি এনসিপি এতে সম্পূর্ণ সম্মতি প্রদান করেছে। এই চুক্তির সুবাদে ড. ইউনুস আমেরিকা পন্থী এক কোম্পানীর সাথে চিটাগাং কাষ্টমস পোর্ট ত্রিশ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে এবং সুমদ্রদ্বীপ সেন্টমার্টিনকেও আমেরিকার নৌঘাটির জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে চিটাগাং বাসী বহু প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন করলেও কোন ফল হয়নি। অতি সম্প্রতি চিটাগাং এর নিউ মুরিং কনটেইনার পোর্টকে দুবাই ভিত্তিক কোম্পানী ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ১৫ বছরের জন্য ইজারা দিল তারেক রহমান সরকার। স্থানীয় চিটাগাংবাসী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন চালালে তাতে পুলিশী বাধা লাঠিচার্জ ধর পাকর অব্যাহত রয়েছে।
ড.ইউনুস সরকারকে সড়িয়ে তারেক রহমানের বিএনপি পুতুল সরকারকে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট স্টাম্প সরকার তার দেশ থেকে ২৫ টা বোয়িং বিমান কিনতে চুক্তি করতে বাধ্য করেছে তার নিয়োগকৃত আরেক গৃহপালিত দালাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নব নিযুক্ত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের (ওরফে রজার খলিল’ আমেরিকায় পরিচিত নাম) মাধ্যমে।
যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে সশস্র মুক্তিযুদ্ধ করে ত্রিশ লক্ষ মানুষের আত্মদান ও দুই লক্ষাধিক মা বোনের সম্ভম খোয়ায়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে যার বিরোধীতা আমেরিকা সরকার সেদিন করেছিল ভূরাজনীতির দীর্ঘ খেলায় এবার তারা জয়ী হলো শেখ হাসিনা সরকারকে দেশের কিছু মীর জাফর মোনাফেক,মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামাত শিবির রাজাকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণে।
এখনো আমেরিকার আশা পূর্ণ হয়নি তাদের লক্ষ বাংলাদেশ মায়ানমার সিমান্তে বহুদিনের স্বপ্ন একটি নতুন খ্রীষ্টান রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়া। মায়ানমারের আরাকান প্রদেশ ভারতের মিজুরাম ও বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি অঞ্চল নিয়ে এ নতুন রাষ্ট্রের উৎপত্তি দেখতে চায় আমেরিকা। বাংলাদেশে দশ লক্ষাধিক মায়ানমারের রোহিঙ্গা উদবাস্তের ফেরত পাঠানোর কোন সহায়তা না করে তাদের অনুগত জাতিসংঘ মহাসচিব মি: গুদ্রেজকে পাঠিয়েছিল পার্বত্য অঞ্চলে রোহিঙ্গা উদবাস্তশিবিরে তাদের মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ মায়ানমার সিমান্তে একটি করিডোর তৈরীর প্রস্তাব নিয়ে। প্রকৃতপক্ষে করিডোরের নামে আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে নোঙ্গর করা তাদের জাহাজ থেকে খাদ্য সামগ্রী সহ যোদ্ধাস্ত্র ও সাজসরম্জান ইত্যাদি সরবরাহ করবে এবং এই অঞ্চলে স্থাপিত তাদের সেনাঘাটি থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির উপর মোড়ল গিরি করবে আর ছটা ঘুরাবে। কিন্তু এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিন,রাশিয়া ও ভারত তারা এ কাজটা এত সহজে করতে দিবে না কারণ আমেরিকার সাথে ভারত ও চিনের বন্ধুত্ব যতই থাকুক ভূরাজনীতির খেলায় আমেরিকাকে স্থায়ীভাবে বঙ্গোপসাগর এলাকায় তারা দেখতে চায় না।
কিন্তু আজ কয়েক দিন যাবত মায়ানমার সিমান্তে আরাকানী বিদ্রোহীদের দমনের নিমিত্তে মায়ানমার সামরিক জান্তার সেনাবাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলাবারুদ সেল বাবংবার সিমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে আঘাত করছে ফলে বাংলাদেশের উপজাতি নাগরিকদের বাড়িঘরে থাকা দায় হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিমান্ত রক্ষীরা এর জবাব দিচ্ছে না পাল্টাপাল্টি যুদ্ধ না বেধে যায় এই আশংকায়!। কিন্তু কতক্ষণ জবাব না দিবে মায়ানমারের সেনারাতো আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে চলেছে। তাদের ডেকে কোন সর্তক ও করছে না বাংলাদেশ সিমান্ত রক্ষী বিজিবিরা। আমেরিকার অনুগত মায়ানমার জান্তা সরকারের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়তো আমেরিকা তখনই তাদের সেনাবাহিনী নামিয়ে এই অঞ্চল দখল করে নতুন কল্পিত রাষ্ট্রের পত্তন দিলে তারেক রহমান সরকারের কি আমেরিকাকে ঠেকানোর কোন পথ আছে? আমেরিকা সেই যোদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে হয়তো মায়ানমার জান্তা সরকারের সেনারা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম সিমান্তে এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতে বসে আছে আমেরিকা আজ না হয় অনাগত ভবিষ্যতে এটা ঘটাবে না তার নিশ্চ্য়তা কে দিতে পারে! সাধু সাবধান!
বাংলাদেশের ইউনুস সরকার ও তারেক রহমান সরকারের মত অদেশপ্রেমিক কোটারী স্বার্থবাদী দলকানা সরকার এ যাবত কালেও আসেনি। ১৯৭৫ সালের পর তারেক জিয়ার পিতা প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়া আমেরিকা ও পাকিস্তান পন্থী ছিলেন বটে তবে দেশ বিক্রি করার মত দাসখত দেওয়া চুক্তি তিনি এবং পরবর্তীতে জেনা: এরশাদ সরকারও করেননি। তারেক জিয়া নিজে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আমেরিকা চিন,তুরস্ক,পাকিস্তানের সাথে যে দেশ বিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে পরবর্তীতে কোন সরকার এসে দাসখত চুক্তি থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বাংলাদেশের নাগরিককে পূর্বের ন্যায় বৃটিশ কলোনী মত থাকতে হবে দীর্ঘদিন আমেরিকার কাছে।
যে কথা শুরুতেই বলছিলাম আমেরিকা বন্ধু হলে আর কোন শত্রু লাগে না ফলে পরবাসী শেখ হাসিনার মুক্তির পথ অন্ধকারাচ্ছন্ন!
কারণ হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে আমেরিকা অর্ধশতাব্দি পর বাংলাদেশকে কড়াত্বে এনেছে এখন হাসিনা মরলো কি বাঁচলো, দেশে আসবে কি ভারতেই থেকে যাবে এ নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই। এ নিয়ে দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকা টিভি চ্যানেল অনলাইন এক্টিভিষ্টরা ও টকসো সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা তোলপাড় করে তুলছেন। আমেরিকার অপারেশন টার্গেট থাকে প্রতিপক্ষের প্রধানকে জীবিত অথবা মৃত্যূর মধ্য দিয়ে অপারেশন সাকসেসফুল করা। ৭৫ এ তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে,পরবর্তীতে ভারতের শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তদীয় পূত্র রাজিব গান্ধী,পাকিস্তানের বেনজীর ভূট্টো,ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে প্রহসনের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে তারা। সে ক্ষেত্রে ২৪ এর আগস্টের ৫ তারিখ শেখ হাসিনা দেশত্যাগের ফলে প্রাণে বেঁচে গেছেন এটা তার বোনাস বা আল্লাহর অশেষ রহমত। তাই বলে পূনরায় আমেরিকা শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন এটা আমার কাছে বিশ্বাস যোগ্য নয়। এমন কি রাজনীতির তোলপাড়ের এত ঘটনার মধ্যেও কি কোন ইঙ্গিত বা আশ্বাস আমেরিকার কোন তরফ থেকে এ পর্যন্ত কেউ পেয়েছেন।বরং আমেরিকার পরিস্কার জবাব ”শেখ হাসিনার ব্যাপারে ভারত — বাংলাদেশ সমাধান দিবে। শেখ হাসিনার মৃত্যূদন্ড সম্পর্কেও তারেক রহমানের সরকারের আভ্যন্তরিন ব্যাপার’ বলে জানিয়েছেন।আবার পাশা পাশি একথাও বলেছে আমেরিকা ” বর্তমান গণতান্ত্রিক তারেক রহমান সরকারের সাথে আমাদের ভাল সম্পর্ক বিরাজ করছে আমরা তাদের সাথে পারস্পারিক বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই”। তার অর্থ হলো তারেক রহমান সরকার তাদেরই মনোনিত পাপেট সরকার। শেখ হাসিনার আসা বা না আসা বিচার সব কিছুই তারেক সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করছে আমেরিকা এখানে নাক গলাবে না। এখন ভারত সরকার তার দেশের সার্বিক স্বার্থে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির স্বার্থে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালিন বন্ধত্বের স্বার্থে ও আওয়ামীলীগের দীর্ঘ শাসনামলের সুসম্পর্কীয় রাজনীতিক ব্যবসায়িক স্বার্থে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতেই হবে তারেক রহমান সরকারকে কুটকৌশলে বাগিয়ে আনার মধ্য দিয়ে তাতে ভারতকে যে রাজনীতিই করতে হয় তা করতে হবে। প্রয়োজনে ভারতকে এ ব্যাপারে চিন রাশিয়া এমনকি আমেরিকাকেও কাজে লাগাতে হবে সবশেষে।###
Leave a Reply