২০২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে বন্ধী বিনিময় প্রতার্পণ চুক্তি আইনে আসবেন নাকি স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন করবেন এ নিয়ে বিএনপি সরকার নষ্টালজিতে ভোগছে। যদিও শেখ হাসিনা দেশে স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন করবেন বলে আন্তর্জাতিক গণ-মাধ্যম সাংবাদিকদের সাথে বারবার সাক্ষাতকারে ঘোষনা দিয়েছেন। এবং তিনি সামনে আগত ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মাস ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ী বেশে দেশে ঢুকে ড.ইউনুস ও বিএনপি সরকার কর্ত্তৃক রজ্জুকৃত মিথ্যা মামলায় জড়িত আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এক যোগে আদালতে আত্বসমর্পণ করবেন বলে বিদেশী সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছেন। আইসিটি আদালতের রায়ে আপনার মৃত্যূদন্ড ফাঁসির আদেশ রয়েছে এ মৃত্যূ ঝুকি মাথায় নিয়েও কি আপনি বাংলাদেশে ফিরতে চান! সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ‘হ্যা আমি আমার দেশে যাবো সন্ত্রাসীরা জানি আমাকে মেরে ফেলতে পারে,তারেক রহমান সরকার ফাঁসি কার্যকর করতে পারে তবু দেশের মানুষের দুর্দশার কথা ভেবে আমাকে যেতেই হবে। এর আগেও ‘৭৫ বঙ্গবন্ধু হত্যার কয়েক বছর পর জিয়াউর রহমান শাসনামলে ও ২০০৭ সালে ১/১১ পর আমি বিদেশের চিকিৎসা শেষে দেশ ফিরতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ফকরুদ্দিন – জেনারেল মঈন সরকার আমাকে দেশে ঢুকতে বাধা দিয়েও দেশে প্রবেশ আটকাতে পারেনি এবারও বিএনপি সরকার আটকাতে পারবে না’।
উল্লেখ্য ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্ট অভ্যূত্থানের সুবিধাভোগী ড.ইউনুস ও বিএনপি সরকারের তৈরী করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আদালতে আন্দোলনকালিন সংঘটিত মিথ্যা অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী অপরাপর দুই একজন নেতাকে তাদের অনুপস্থিততেই মৃত্যূদন্ড ফাঁসির আদেশ শুনিয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরত এনে বিচারিক রায় কার্যকর করার ঘোষনা দিয়েছেন গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,সালাউদ্দিন আহমেদ জামাত, শিবির,এনসিপি ও আওয়ামী সরকার পতনের সুবিধাভোগী উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠি। অন্যদিকে আইসিটি আদালতের চীফ প্রসিকিউটর বলেছেন- ‘শেখ হাসিনার আদালতে আপিলের কোন সুযোগ নেই’। প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা: জাহেদ গত ৮ সেপ্টেম্বর বলেছেন ‘ শেখ হাসিনার আপিলের কোন সুযোগ নেই দেশে ফিরলেই মৃত্যূদন্ড!’ তিনি আবার গত ১১ আগস্ট সাংবাদিকদের বলেছিলেন ‘ শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তা ও আইনী সহায়তা পাবেন’। সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে তারা শেখ হাসিনার দেশে ফিরার ঘোষনা শুনে আবোলতাবোল বকা শুরু করেছেন।
একদিকে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দন্ড কার্যকর করবেন বলে ভারতকে বন্ধি প্রত্যার্পণ চুক্তির প্রেক্ষিতে পত্র লিখছেন অন্যদিকে শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরার ঘোষনা দিলে তাকে বারবার ফাঁসির দন্ড কার্যকরের কথা বলে ভয় দেখানো হচ্ছে যেন তিনি দেশে না ফিরেন!
তাছাড়া শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে বিদেশী সাংবাদিক সম্মেলন ও অডিও সাক্ষাতকার দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর বন্ধ করে রেখেছেন!এরই মধ্যে তারেক রহমান সিংগাপুর থাইল্যান্ড চীনের মত রাষ্ট্রগুলি সফর করে ফিরলেও শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে কুটনৈতিক,আঞ্চলিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক ব্যবসায়িক সকল তৎপরতায় টানাপোরন চলছে।
ভারতের দিল্লীতে বসে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বিশ্বের একটি বড় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংস্থার দুই শতাধিক সাংবাদিকদের সাথে অডিওতে দীর্ঘ একঘন্টা ব্যাপি (অনুষ্ঠান ২ ঘন্টা) তিনি তার পূত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা ও বিভিন্ন দেশে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশে তার শাসনামল ও পরবর্তীতে ড.ইউনুস ও বর্তমান বিএনপি তারেক রহমানের সরকারের তুলনা করে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে অবৈধ মিথ্যা বানোয়াট মামলা রজ্জু করে আটকিয়ে রেখে অমানবিক নির্যাতন নিপিড়ন অত্যাচার জখম খুন ধর্ষন বাড়িঘর সহায় সম্পদ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্খল লুটপাট ভাংচুর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধবংস করার আদ্যপান্ত তুলে ধরেন সাংবাদিকদের নিকট। বাংলাদেশের ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যাদুঘর বঙ্গবন্ধুর প্রতীকী ম্যূরাল বীর শ্রেষ্ঠদের ম্যূরাল মেহেরপুর বদ্যেরনাথ তলা আম্রকুঞ্জ মুজিব নগর সহ দেশব্যাপি সকল স্মৃতিস্তম্ভ,ধানমন্ডি ৩২ নং এর যাদুঘর ভবন দেশের পীর মাশায়েক আউলিয়া দরবেশের মাযার মডেল মসজিদ,হিন্দুদের মন্দির বোলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে আগুনে পুড়িয়ে ধবংস করা হয়েছে। ৭.৬২ বিদেশী অস্ত্র ব্যবহার করে জঙ্গিরা মানুষ হত্যা করেছে পুলিশ ও আওয়ামীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে যা সামাজিক যোগাযোগে নিজেরা স্বীকার করেছে এ কথা তিনি সাংবাদিকদের জানান।
তারেক রহমানের বিএনপি সরকার ৭৫ বছর বয়সী ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারি সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচনের বাইরে রেখে জামাত এনসিপি উগ্র মৌলবাদী স্বাধীনতা বিরোধী দলকে নিয়ে একপেশে একটি নির্বাচন করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেছে।
আজ ক্ষমতা গ্রহনের পাঁচ মাস হলো ইতোমধ্যে দেশে বিদ্যুৎ নেই,গ্যাস নেই, জ্বালানী নেই কৃষকের সার নেই ব্যংকে টাকা নেই,বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধবগতি,ঔষধের অভাবে হাজারের ও উপরে হামে শিশু মারা গেছে,শতশত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি প্রতিনিয়ত চুরি ডাকাতই ছিনতাই,চাঁদাবাজদের হাতে খুন ধর্ষন নিত্য ঘটনা মানুষ সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন এটাই সামাল দিতে পারছে না বিএনপি সরকার অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বানিজ্য চুক্তি করে দেশের জন্য বিলাসী যুদ্ধাস্ত্র মার্কিন যুদ্ধ বিমান,চীনের যুদ্ধ ফাইটার কিনায় জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
গত ১২ ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ৩ দিন আগে ৯ ই ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে অন্তবর্তী সরকার প্রধান ড.ইউনূস, বিএনপি প্রধান তারেক রহমান, জামাত প্রধান ডা:শফিকুর রহমান,এনসিপির যৌথ সম্মতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকট দেশবিক্রী বানিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ড.ইউনূস। তারপূর্বে মার্কিনী কোম্পানীর কাছে চিটাগাং বন্দরকে ৩০ (ত্রিশ) বছরের জন্য লীজ চুক্তিতে স্বাক্ষর,মার্কিনী নৌঘাটি করার কক্সবাজার সুমুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন,কক্সবাজার পার্বত্যজেলায় মানবিক করডোর নামে জায়গা প্রদান সহ মার্কিনীদের কাছে স্থায়ীভাবে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার পায়তারা চলছে।
ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা বিদেশী সাংবাদিক ও বিভিন্ন মিডিয়ায় বক্তব্য রাখার কারণে বাংলাদেশের বিএনপি সরকার জুলাই অভ্যূত্থানের সুবিধাভোগী জামাত শিবির,এনসিপি ও মেটিক্যুলাস ডিজাইন মাষ্টার ড.ইউনূসের আসল রুপ ও কার্যকলাপ উন্মোচন হয়ে পড়ার কারণে তারা দিকবিদিক দিশেহারা হয়ে পড়ছে বলে রাজনীতিক বিশেষজ্ঞরা ধারনা করছেন। সম্পূর্ণ মিথ্যা গুজব ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারি দলীয় সরকারকে মেটিক্যুলাস ডিজাইনে উৎখাত করা যে কতটা সমীচিন ছিল সে সম্পর্কেও সাংবাদিক সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা জুলাই অভ্যূত্থানের সুবিধাভোগীদের সম্পর্কে বিশ্ববাসিকে জানানোর চেষ্টা চালাচ্ছন।
এখানেই বিএনপি সরকার জামাতে ইসলাম, শিবির এনসিপি ও উগ্রধর্মীয় মৌলবাদিদের জিঘাংসা নতুন করে দানা বাধছে শেখ হাসিনা ও তার দলীয় নেতা কর্মীদের উপর।
বিএনপি জামাত শিবির এনসিপি শেখ হাসিনা ও তার দলের উপর এত চাপ সৃষ্টি সত্যেও তাদের গতিরোধ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বিধায় তারা নিজেদের ক্ষমতা নিস্কন্টক করার জন্য বিএনপি শেখ হাসিনা নষ্টালজিতে ভোগছে প্রতিমূহুর্ত।
তাই তারা শেখ হাসিনাকে প্রহসনের বিচারে হলেও তড়িঘড়ি করে হয় ফাঁসি কার্রযকর অথবা দেশের বাইরে সড়িয়ে রাখার প্রাণপণ কুটনীতি ছলাপরামর্শ চালাচ্ছে পাক মার্কিন চীনের সাথে তারেক রহমান সরকার।
যদিও শেখ হাসিনা প্রত্যার্পণ বা প্রত্যাবর্তন//ফাঁসি বা মুক্তি চীন মার্কিন ভারত রাশিয়া পাকিস্তানের ভূরাজনীতির অবস্থানগত বিষয়টি বাদ রেখে মিমাংসা সম্ভব নয় বলে রাজনীতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
Leave a Reply